**রংপুর নাগরিক সমাজ(RNS) সংগঠনের নিউজ পোর্টাল rnsnews24.com এ স্বাগতম।  *** প্রতিনিধি নিয়োগ*** রংপুর বিভাগের সকল জেলা ও রংপুর জেলার সকল উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ- 01722-882770 ।  *** সবার আগে নির্ভুল সংবাদ পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন।

শফি খানের প্রস্তাব “ভাওয়াইয়ার আখড়া”

শফি খানের প্রস্তাব “ভাওয়াইয়ার আখড়া”

শফি খানের নামকরণের পাশাপাশি আপনিও গঠিতব্য সংগঠনটির একটি নামের প্রস্তাব দিতে পারেন। শফি খান মনে করেন, লালনের আখড়ার মতো হবে ভাওয়াইয়ার আখড়া। এটি প্রতিষ্ঠিত হবে রংপুর শহর থেকে ১০/২০ কিলোমিটারের মধ্যে। বিশ্বরোডের কাছাকাছি। অন্তত ১ একর জায়গায় এটি প্রতিষ্ঠিত হবে। সেখানে দেশ বিদেশের প্রতিভাবান ছেলে মেয়েরা এসে থাকবে, খাবে, ভাওয়াইয়া গান শিখবে এবং ভাওয়াইয়ার আদ্যোপান্ত জানবে। সেখানে সংগৃহীত গানগুলো সংরক্ষিত থাকবে। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালা হবে। এটি ভাওয়াইয়া শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সংগ্রাহক ও গবেষক তৈরির কারখানা হবে।

শফি খানের ধারণা, আমরা ভাওয়াইয়া শিল্পীরা চাইলে এমন একটি আখড়া গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি চান আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি আখড়া গড়ে তুলি। গত ১৩ অক্টোবর ২০২১ মুঠোফোনে তিনি আমাকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন।

শ্রদ্ধেয় শফি খানের ভাবনা আমি ভেবেছিলাম আশির দশকে। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ভাওয়াইয়া বিষয়ক জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন “বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ, রংপুর “-এর গঠনতন্ত্রের একটি ধারায় এ রকম স্বপ্নের কথা লেখা ছিলো। শুধু তাই নয়, ভাওয়াইয়া একাডেমি, ঢাকা এবং ভাওয়াইয়া অঙ্গনের গঠনতন্ত্রেও এ রকম ভাবনার উল্লেখ আছে। কারণ, এ দুটি সংগঠনের গঠনতন্ত্রও আমিই প্রণয়ন করেছিলাম। তবে, আমার প্রস্তাবিত নাম ছিলো “ভাওয়াইয়া চত্বর”। আমি চাই, ওই সংগঠনের উদ্যোগে বছরে একবার ভাওয়াইয়া মেলা অনুষ্ঠিত হবে। নিয়মিতভাবে ভাওয়াইয়া সন্ধ্যা, একক ভাওয়াইয়া সন্ধ্যা, দ্বৈতকণ্ঠে ভাওয়াইয়া সন্ধ্যা, ভাওয়াইয়া রজনী, ভাওয়াইয়া উৎসব, সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দেশ বিদেশের শত শত মানুষ এসে ভাওয়াইয়া শুনে তৃপ্ত হবেন।

শুনতে ভালো না লাগলেও সত্য যে, ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদের বিলুপ্তি ঘটে। ২০০২ খ্রিস্টাব্দে গঠিত “ভাওয়াইয়া একাডেমি, ঢাকা”-ও বিলুপ্তির পর্যায়ের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। গত দেড় যুগে সংগঠনটি একটি অনুষ্ঠানও করেনি। বেঁচে রয়েছে ভাওয়াইয়া পরিষদের উলিপুর উপজেলা শাখা, ভাওয়াইয়া একাডেমি, ঢাকার রংপুর জেলা শাখা এবং ভাওয়াইয়া অঙ্গনের কেন্দ্রীয় দপ্তর ও এর রংপুর বিভাগীয় শাখা।

আনন্দ সংবাদ এই যে, ভাওয়াইয়া বিষয়ক আরও কয়েকটি সংগঠনের জন্ম হয়েছে গত ২৫ বছরে। সেগুলোও অনিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভাওয়াইয়া ও লোকোসংগীত বিষয়ক প্রবীণ সংগঠন গীদালের আখড়া দীর্ঘ বিরতির পর সরব হয়ে ভাওয়াইয়া উৎসব ও ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠান করে সারা দুনিয়াতে পরিচিতির আলো ছড়াচ্ছে। রংপুরের সাউন্ড টাচও ভাওয়াইয়া উৎসব আয়োজন করে বিশেষ অবদান রেখেছে।

আমি চাই, সংগঠনগুলো তাদের মতো করে নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ভাওয়াইয়ার আখড়া বা অন্য যে নামেই হোক, ভাওয়াইয়া শিল্পীদের জন্য সুবিশাল ওই সংগঠনটি হবে ভাওয়াইয়ার প্রধান সংগঠন। এমন বড়ো মাপের একটি সংগঠন কি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে আমাদের পক্ষে? দেশের ভাওয়াইয়া শিল্পীরা কি এমন একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার পক্ষে মত ও পরামর্শ দিবেন?

আমি সুনীল সরকারের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। সে আমাকে বলেছে, “রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার অথবা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের যে কোনো একজন পদাধিকার বলে এই সংগঠনটির চেয়ারম্যান হবেন এবং আমরা ভাওয়াইয়া শিল্পীরা যোগ্যতা মাফিক বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত থাকবো।”

আপনিও ভাবতে পারেন, এমন একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব কি না। আপনার কোনো প্রস্তাবনাও তুলে ধরতে পারেন।

আমি আশাবাদী এ কারণে যে, আমার মতো ছোট্ট মানুষের চেষ্টায় রংপুরের মতো শহরে ভাওয়াইয়া শিল্পীদের একটি জায়গার ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেই জায়গায় আমি সরকারের কাছ থেকে ঘর নির্মাণ করে নিয়েছি। আমাদের উদ্যোগে ওই চত্বরে আব্বাসউদ্দীন মঞ্চ নির্মিত হচ্ছে।

পক্ষান্তরে দেশ বিদেশের শত শত শিল্পী একত্রিত হয়ে এ কাজটা করতে চাইলে অবশ্যই সফলতা আসবে বলে আমার মনে হয়। আমি সর্বজনাব মুস্তাফা জামান আব্বাসী, ফেরদৌসী রহমান, রথীন্দ্রনাথ রায়, নাদিরা বেগম, মো. হারুন অর রশিদ, অনন্ত কুমার দেব, ফিরোজ খান নুন, মোহাম্মেদ গুলজার হোসেন, ভূপতি ভূষণ বর্মা, খ ম আলী সম্রাট, নূর মোহাম্মাদ চৌধুরী, নূরুল ইসলাম দেওয়ান, এস এম নজরুল ইসলাম, রেজেকা সুলতানা ফ্যান্সী, মকসুদার রহমান মুকুল, বাদশা আলম, মিনহাজ উদ্দিন আজাদ, মো. শফিকুল ইসলাম, রণজিৎ কুমার রায়, আরিফ চৌধুরী পলাশ ও সালমা মোস্তাফিজসহ সকল ভাওয়াইয়া শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সংগ্রাহক, গবেষক ও লেখক এবং মনোয়ারা বেগম, কাজী মোহাম্মদ জুননুন, আনওয়ারুল ইসলাম রাজু, ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু, বিপ্লব প্রসাদ, অধ্যাপক মো. শাহ আলম, রাজ্জাক মুরাদ, এমাদউদ্দিন আহমেদ, নূর ইসলাম বর্ষণ, মোহর খান, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মাননীয় মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম পি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী টিপু মুনশি এম পি, রংপুর সদর উপজেলার মাননীয় সংসদ সদস্য সাদ এরশাদ, গঙ্গাচড়া উপজেলার মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধী দলীয় হুইপ মো.মশিউর রহমান রাঙ্গা, মিঠাপুকুর উপজেলার মাননীয় সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান এবং বদরগঞ্জ তারাগঞ্জ উপজেলার মাননীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক চৌধুরীর কাছে আমি সবিনয়ে প্রস্তাব রাখছি, আসুন, আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাওয়াইয়ার আলোচিত সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করে আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া এবং এ গানের ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে অবদান রাখি। সারা দুনিয়াতে রংপুরের মর্যাদা বৃদ্ধি করি। সংস্কৃতিবান্ধব এ সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

আমরা সফল হলে ভাওয়াইয়ার ইতিহাস আমাদেরকে ধারণ করবে। কীভাবে এগোনো যায় পরামর্শ দিন। ধন্যবাদ।

 

লেখকঃ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান
ভাওয়াইয়া শিল্পী, গীতিকার, সংগ্রাহক, গবেষক

সংবাদটি সবাইকে জানাতে আপনার স্যোস্যাল অ্যাকাউন্ট দিয়ে শেয়ার করুন




©২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। আর এন এস নিউজ ২৪.কম।