**রংপুর নাগরিক সমাজ(RNS) সংগঠনের নিউজ পোর্টাল rnsnews24.com এ স্বাগতম।  *** প্রতিনিধি নিয়োগ*** রংপুর বিভাগের সকল জেলা ও রংপুর জেলার সকল উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ- 01722-882770 ।  *** সবার আগে নির্ভুল সংবাদ পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন।
ভাওয়াইয়া উৎসবে প্রাণ ফিরে পেলো রংপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন

ভাওয়াইয়া উৎসবে প্রাণ ফিরে পেলো রংপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন

ভাওয়াইয়া উৎসবে প্রাণ ফিরে পেলো রংপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন

করোনা অতিমারীর কারনে দীর্ঘদিন থেকে রংপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তেমন আশা জাগানিয়া অনুষ্ঠান হয়নি। প্রায় ঝিমিয়ে পরেছিলো সাংস্কৃতিক এ চত্বর।
সেই খরা কাটিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হলো ২ দিনব্যাপী ভাওয়াইয়া উৎসব। রওশন আরা সোহেলী’র কণ্ঠে ভেসে আসে “ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত রব আমি পন্থের দিকে চায়া রে। যেদিন গাড়িয়াল উজান যায়”। দরদমাখা কন্ঠে “মিয়া ভাই একনা কতা কবার চাও, অংপুর মুই যাবার চাও, চিড়িয়াখানা দেখিয়া আনু হয়”। এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের কণ্ঠে “আয়শার মার পাইশা হারাইছে” তার সহধর্মীনী সালমা মোস্তাফিজের “দোতরাত ডাঙ্গে কায় বা জান, নদীর ওপার দিয়া” গানে গানে দর্শকের কণ্ঠ মেলানো পরিপূর্ণ করে তোলে উৎসবকে।
একের পর এক মন মাতানো গান পরিবেশন করেন ভাওয়াইয়া শিল্পীরা।

উৎসবকে ঘিরে বৃষ্টির চোখ রাঙ্গানিকে উপেক্ষা করে শেকড়ের গান শুনতে আসেন অনেক দুর-দুরান্ত থেকে। এ প্রজন্মের উপস্থিতি কম থাকলেও ষাটোর্ধ¦ গান পাগল মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পরার মতো। কানায় কানায় পরিপূর্ণ দর্শক। গানের শেষে হাত তালি নতুন করে আশা জাগায় শেকড় শিল্পীদের।
উৎসব হয়ে ওঠে ভাওয়াইয়া শিল্পী ও অনুরাগীদের মিলন মেলা। এ উৎসবের মধ্যদিয়ে যেন প্রাণ ফিরে পেলো রংপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

শনিবার(২১ মে) রংপুর টাউন হল মিলনায়তনে শেকড়ের গানের সুরের মুর্চনায় শেষ হয় ২দিনব্যাপী ভাওয়াইয়া উৎসবের।
দুই দিনের এ উৎসবের আয়োজন করে ভাওয়াইয়া অঙ্গন বিভাগীয় শাখা রংপুর। উৎসবের উদ্বোধনী দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও পঞ্চগড় থেকে আগত শিল্পীরা ভাওয়াইয়া পরিবেশন করেন। শনিবার সমাপনী দিনে মঞ্চ মাতান ঠাকুরগাঁও লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও রংপুরের শিল্পীরা। দুইদিনের
উৎসবে গানের মাঝে চলে দলীয় একতারা ও দোতরার সুর এবং তবলার লহড়া। যা দর্শকদের আকৃষ্ট করে রাখে দীর্ঘ সময়।


এর আগে শুক্রবার বিকেলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সন্ধ্যায় টাউনহলে আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয় বিভাগীয় ভাওয়াইয়া উৎসব। উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

উৎসব নিয়ে রসিক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ভাওয়াইয়া আমাদের উত্তরাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-সম্পদ। বর্তমান প্রজন্ম ভাওয়াইয়া থেকে অনেক দূরে। তাদের মাঝে ভাওয়াইয়াকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এজন্য বেশি বেশি করে ভাওয়াইয়া গানের চর্চা করতে হবে, উৎসব করতে হবে। তিনি এরকম আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতায় পাশে থাকবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী সদস্য নাট্যব্যক্তিত্ব বিপ্লব প্রসাদ বলেন, ভাওয়াইয়া গানের শিক্ষা সংগ্রহ, সংরক্ষণ গবেষণার জাতীয়ভিত্তিক বিশেষায়িত সংগঠন ভাওয়াইয়া অঙ্গন ভাওয়াইয়ার প্রচার-প্রসার ও সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এটির ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমাজের সংস্কৃতিমনা বিত্তবানদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ভাওয়াইয়া গানের ভক্ত দিনাজপুর থেকে এসেছেন আলী মোল্লা। হোটেলে থেকে এ দুইদিনের ভাওয়াইয়া উৎসবে গান শুনেছেন। গান শুনে বেশ আনন্দিত উৎফুল্লিত। তাই এই সুন্দর আয়োজনের জন্য আয়োজক সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন তিনি।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভাওয়াইয়া গানের মানোন্নয়নে রংপুর বিভাগের আট জেলার ভাওয়াইয়া শিল্পীদের নিয়ে এই উৎসবের আয়োজন করা। এতে করে ভাওয়াইয়া গানের শিল্পীদের আরো উজ্জীবিত করা এবং নতুন প্রজন্মের সাথে ভাওয়াইয়া গানকে পরিচিত করে দেয়া।

দুইদিনব্যাপী ওয়াইয়া উৎসবে সঞ্চালনা করেন ভাওয়াইয়া শিল্পী রণজিৎ কুমার রায় ও মোকসেদার রহমান মুকুল। উৎসবে ভাওয়াইয়া গীতিকার, সুরকার শিল্পী ও সংগঠকরা অংশ নেন।

সংবাদটি সবাইকে জানাতে আপনার স্যোস্যাল অ্যাকাউন্ট দিয়ে শেয়ার করুন




©২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। আর এন এস নিউজ ২৪.কম।